Play Tube video

ট্যাটু, অশালীন কাটিং ও অবৈধ প্রেম: আধুনিক জীবনে ইসলামের সঠিক নির্দেশনা

ট্যাটু ও চুলের কাটিং সম্পর্কে ইসলামে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বর্তমান সময়ে সৌন্দর্য, আধুনিকতা ও সংস্কৃতির নামে অনেক বিষয় সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, যেগুলো সম্পর্কে একজন মুসলিমের সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। এই আলোচনায় ট্যাটু, চুলের কাটিং, সম্পর্ক ও ইসলামী জীবনধারা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

🕊️ মনে রাখতে হবে, প্রকৃত সফলতা বাহ্যিক সাজসজ্জায় নয়; বরং আল্লাহর আনুগত্য ও পবিত্র জীবনে।

মিজানুর রহমান আজহারী

শায়েক আবদুল্লাহ

10 2

এক নজরে মূল আলোচনা

  • বর্তমান সময়ে তরুণদের চুলের কাটিং, ট্যাটু ও বিভিন্ন আধুনিক প্রবণতা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
  • রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধকৃত চুলের ধরন, ট্যাটু এবং অনুকরণপ্রবণতা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
  • সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া এবং পরিবার থেকে সঠিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে।
  • নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি বজায় রেখে শালীন জীবনযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আলোচনার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ইসলামিক দলিল

✦ ইসলামে শালীনতা ও পরিচয়ের গুরুত্ব: একজন মুসলিমের বাহ্যিক সাজসজ্জা ও জীবনধারায় ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত।
দলিল: “হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক মসজিদে নিজের সৌন্দর্য গ্রহণ কর।” — সূরা আল-আরাফ: ৩১

✦ কাযা (অসমভাবে চুল কাটা) থেকে বিরত থাকা: মাথার কিছু অংশের চুল ফেলে কিছু অংশ মুণ্ডানো ধরনের কাটিং থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন।
দলিল: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২০।

✦ সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব: সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ভালো-মন্দ, হালাল-হারাম ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিতে হবে।
দলিল: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা কর।” — সূরা আত-তাহরিম: ৬

✦ অন্ধ অনুকরণ থেকে সতর্ক থাকা: এমন কোনো সংস্কৃতি বা জীবনধারা অনুসরণ করা উচিত নয় যা ইসলামী আদর্শ ও নৈতিকতার বিরোধী।
দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১

✦ ট্যাটু সম্পর্কে ইসলামের সতর্কতা: স্থায়ী ট্যাটু করা ও করানো সম্পর্কে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
দলিল: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৫।

✦ সন্তানদের আধুনিকতার নামে ভুল পথে যাওয়া থেকে রক্ষা করা: পরিবারকে সচেতনভাবে সন্তানদের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” — সহিহ বুখারি, হাদিস ৭১৩৮

✦ বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে অন্তরের সৌন্দর্য জরুরি: শুধু সাজসজ্জা নয়, চরিত্র ও আমল দিয়েই মানুষের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়।
দলিল: “আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না; তিনি তোমাদের অন্তর ও কাজের দিকে তাকান।” — সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬৪

✦ নিজস্ব ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা করা: সমাজের প্রচলিত কোনো বিষয় গ্রহণ করার আগে তা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা বিবেচনা করা উচিত।
দলিল: Surah আল-বাকারা: ২০৮ — “তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।”

✦ অশালীনতা ও অনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা: মুসলিম যুবকদের চরিত্র, লজ্জাশীলতা ও পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি।
দলিল: “আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে…” — সূরা আল-মুমিনুন: ৫

✦ শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে সমাজ গঠন: পরিবার ও সমাজে ইসলামী শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
দলিল: “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে।” — সূরা আলে ইমরান: ১০৪

19 1

✦ আরও গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও আলোচনা দেখুন

বিষয় সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও

✦ ট্যাটু করা ও করানো থেকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর নিষেধ করেছেন।

✦ শয়তান মানুষের সৌন্দর্যের আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে এমন কাজে প্ররোচিত করে, যা আল্লাহর অপছন্দনীয়।

✦ ট্যাটু করার আগে চিন্তা করা উচিত, কারণ অনেক সময় এটি স্থায়ী হয়ে যায় এবং পরে চাইলেও সহজে দূর করা যায় না।

✦ শরীর আল্লাহর দেওয়া আমানত, তাই শরীরের পরিবর্তন ও সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রেও ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

⚠️ ট্যাটু করা ও করিয়ে দেওয়া উভয়ই নিষিদ্ধ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ট্যাটু অঙ্কনকারী ও যার শরীরে ট্যাটু অঙ্কন করা হয়—উভয়ের ব্যাপারে কঠোর সতর্ক করেছেন।

⚠️ ব্যবসায়িক স্বার্থে ট্যাটুকে বৈধ করার চেষ্টা থেকে সতর্ক থাকুন: ট্যাটু করা হারাম—এটাই মূল বিষয়, কোনো ব্যবসায়িক ফতোয়া দিয়ে এটিকে বৈধ করা যাবে না।

⚠️ ট্যাটু হয়ে গেলে করণীয়: ট্যাটু অপসারণের সামর্থ্য থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব না হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নামাজ চালিয়ে যেতে হবে।

⚠️ ওযুর ক্ষেত্রে সতর্কতা: ট্যাটুর ওপর যদি চামড়ার উপরে কোনো আলাদা আবরণ থাকে, যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে সেই আবরণ অপসারণ করে ওযু করতে হবে।

দলিল:
“আল্লাহ ট্যাটু অঙ্কনকারী ও ট্যাটু করিয়ে নেওয়া ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৫)

Q&A

❓ প্রশ্ন: ট্যাটু করা কি ইসলামে বৈধ?
উত্তর: না, ট্যাটু করা ও করানো থেকে ইসলাম নিষেধ করেছে। ভুল হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে তওবা করে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ ট্যাটু অঙ্কনকারী ও ট্যাটু করানো ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৫)

❓ প্রশ্ন: শরীরে ট্যাটু থাকলে কি ওযু হবে?
উত্তর: ট্যাটুর কারণে যদি চামড়ার ওপর এমন কোনো আবরণ তৈরি হয়, যা পানিকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে তা অপসারণ করে ওযু করতে হবে। আর স্থায়ী ট্যাটু হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) ট্যাটু করা ও করানো থেকে নিষেধ করেছেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৫)

❓প্রশ্ন: শরীরে ট্যাটুর দাগ থাকলে কি নামাজ হবে?

উত্তর: ট্যাটু করা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে ট্যাটু যদি স্থায়ী হয়ে যায় এবং তা অপসারণ করা সম্ভব না হয় বা অপসারণে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে নামাজ ও ওযু সহিহ হবে। এজন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে।

দলিল:
রাসুলুল্লাহ (সা.) ট্যাটু করা ও করানো থেকে নিষেধ করেছেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৫।

❓ প্রশ্ন: ট্যাটু থাকলে কি পবিত্রতা অর্জন (ওযু) করা যাবে?

উত্তর: ট্যাটু যদি চামড়ার ওপর আলাদা কোনো আবরণ তৈরি না করে, তাহলে ওযু ও পবিত্রতা অর্জন করা যাবে। তবে ট্যাটু করা ইসলামে নিষিদ্ধ হওয়ায় আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) ট্যাটু অঙ্কনকারী ও ট্যাটু করিয়ে নেওয়া ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৫)


❓ প্রশ্ন: ইসলামে চুল কাটার বিধান কী?

উত্তর: ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দরভাবে চুল রাখার অনুমতি রয়েছে, তবে এমন চুলের ধরন থেকে নিষেধ করা হয়েছে যেখানে মাথার কিছু অংশের চুল ফেলে কিছু অংশ রাখা হয় (কাযা)।

02 3

দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) মাথার কিছু অংশের চুল ফেলে কিছু অংশ মুণ্ডানো থেকে নিষেধ করেছেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২০)

❓ প্রশ্ন: রাসুলুল্লাহ (সা.) কী ধরনের চুল রাখতেন?

উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল ছিল পরিপাটি ও স্বাভাবিকভাবে রাখা। তিনি চুলের যত্ন নিতেন, তেল দিতেন এবং পরিচ্ছন্ন রাখতেন; তবে অদ্ভুত বা অসমভাবে চুল কাটাকে পছন্দ করতেন না।

দলিল: হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল কখনো কানের লতি পর্যন্ত, আবার কখনো কাঁধের কাছাকাছি পর্যন্ত লম্বা ছিল।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯০৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৩৮)


❓ প্রশ্ন: রাসুলুল্লাহ (সা.) কোন ধরনের চুলের কাটিং রাখতে নিষেধ করেছেন?

উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) মাথার কিছু অংশের চুল ফেলে কিছু অংশ রেখে দেওয়া ধরনের কাটিং (কাযা) করতে নিষেধ করেছেন।

দলিল: ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কাযা (মাথার কিছু অংশের চুল মুণ্ডানো ও কিছু অংশ রেখে দেওয়া) থেকে নিষেধ করেছেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২০)

❓ প্রশ্ন: থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করা ইসলামে কি বৈধ?

উত্তর: ইসলামে থার্টি ফার্স্ট নাইট নামে কোনো ধর্মীয় উৎসব নেই। মুসলিমদের উচিত এমন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকা, যেখানে অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি বা ইসলামী মূল্যবোধের বিরোধী কোনো বিষয় থাকে।

দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১)

❓ প্রশ্ন: পহেলা বৈশাখ পালন করা ইসলামে কি বৈধ?

উত্তর: পহেলা বৈশাখ যদি শুধু সামাজিক বা সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবে পালন করা হয় এবং এতে ইসলামের বিরোধী কোনো বিষয় (অশ্লীলতা, অপচয়, হারাম কাজ) না থাকে—তাহলে এর বিধান অংশগ্রহণের ধরন অনুযায়ী বিবেচিত হবে। তবে এটিকে ধর্মীয় উৎসব বা ইবাদতের অংশ মনে করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক জাতির নিজস্ব উৎসব রয়েছে, আর এটি আমাদের উৎসব।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৯২)

❓ প্রশ্ন: অন্য কোনো সংস্কৃতি (কালচার) ইসলামে এনে পালন করা যাবে কি?

উত্তর: যে কোনো সংস্কৃতি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও বিধানের বিরোধী হলে তা গ্রহণ করা যাবে না। তবে ভালো ও বৈধ সামাজিক রীতিনীতি গ্রহণে ইসলামে বাধা নেই।

দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১)

আরও দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।”
(সূরা আল-বাকারা: ২০৮)

17

❓ প্রশ্ন: ইসলামে কত প্রকার চুলের কাটিং বৈধ?

উত্তর: ইসলামে চুল রাখার নির্দিষ্ট কোনো কাটিং সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। চুল বড় রাখা, ছোট করা বা মাঝারি রাখা—সবই বৈধ, তবে এমন কাটিং থেকে বিরত থাকতে হবে যেখানে মাথার কিছু অংশের চুল ফেলে কিছু অংশ রাখা হয় (কাযা)।

03 2

দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) কাযা (মাথার কিছু অংশের চুল মুণ্ডানো এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়া) থেকে নিষেধ করেছেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২০)

❓ প্রশ্ন: প্রেম ভালোবাসা করা কি হারাম?

উত্তর: বিবাহের আগে অবৈধ প্রেম, গোপন সম্পর্ক ও এমন ভালোবাসা যা গুনাহের দিকে নিয়ে যায়—ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে বিবাহের উদ্দেশ্যে শরিয়তের সীমার মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্ক রাখা বৈধ।

দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং মন্দ পথ।”
(সূরা আল-ইসরা: ৩২)

12 1


❓ প্রশ্ন: অপরিচিত মেয়ের সঙ্গে দিনের পর দিন ফোনে কথা বলা যাবে কি?

উত্তর: প্রয়োজন ছাড়া অপরিচিত নারী-পুরুষের মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা বলা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমন কথা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং মন্দ পথ।”
(সূরা আল-ইসরা: ৩২)

এই আলোচনা থেকে আমরা যা শিখলাম

✦ ইসলামের শিক্ষা হলো—নিজের বাহ্যিক সৌন্দর্য, পোশাক ও জীবনধারায় আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে থাকা।

✦ সন্তানদের সঠিক ইসলামী শিক্ষা দেওয়া, ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝানো এবং তাদের চরিত্র গঠনে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

✦ আধুনিকতার নামে এমন কোনো সংস্কৃতি, সম্পর্ক বা অভ্যাস গ্রহণ করা যাবে না, যা ঈমান, লজ্জাশীলতা ও ইসলামী মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

✦ সত্যিকারের সৌন্দর্য বাহ্যিক সাজসজ্জায় নয়; বরং উত্তম চরিত্র, পবিত্রতা ও আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা।

যা যা পরিহার করা উচিত

✦ ইসলামের নিষেধকৃত চুলের কাটিং, ট্যাটু ও শরীরের পরিবর্তনমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

✦ অন্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ, অশালীনতা ও এমন জীবনধারা গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকতে হবে যা ইসলামী মূল্যবোধের বিরোধী।

✦ বিবাহের আগে অবৈধ প্রেম, অপ্রয়োজনীয় সম্পর্ক ও গুনাহের দিকে নিয়ে যায় এমন যোগাযোগ পরিহার করতে হবে।

14


এখান থেকে আমাদের আমল

✦ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের পোশাক, চুলের ধরন ও সৌন্দর্যচর্চায় ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা।

✦ সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ইসলামী শিক্ষা, শালীনতা ও ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো।

✦ অন্যের সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না করে নিজের ঈমান ও ইসলামী পরিচয় রক্ষা করা।

✦ শরীরে ট্যাটু বা নিষিদ্ধ কোনো কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং ভুল হলে আল্লাহর কাছে তওবা করা।

✦ অবৈধ সম্পর্ক, অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও গুনাহের পথ থেকে নিজেকে হেফাজত করা।

✦ নিজের জীবন ও চরিত্রকে সুন্দর করে গড়ে তুলে আল্লাহর আনুগত্যের পথে চলার চেষ্টা করা।

✦ সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের ভুল পথে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

01 4

⚠️ সতর্কবার্তা:
ট্যাটু করা এবং ট্যাটু করে দেওয়া—উভয় কাজ থেকেই মুসলিমদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠিন সতর্কবাণী দিয়েছেন।

09


শেষ কথা

✦ দুনিয়ার সাময়িক সৌন্দর্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

✦ নিজেকে ও পরিবারকে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী গড়ে তুলি, কারণ আজকের ছোট সিদ্ধান্তই আগামী আখিরাতের ফল নির্ধারণ করবে।

✦ আল্লাহর নিষেধ থেকে বেঁচে, উত্তম চরিত্র ও পবিত্র জীবন নিয়ে চলাই হোক আমাদের প্রকৃত সফলতার পথ।

আজকের আধুনিকতার ভিড়ে আমরা অনেক সময় ভুলে যাচ্ছি—কোনটি সৌন্দর্য আর কোনটি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। চুলের স্টাইল, ট্যাটু, সম্পর্ক ও সংস্কৃতির নামে কোন পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি?

এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা জানাবে, কীভাবে ইসলামের আলোকে নিজের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালনা করা যায়।

Write your comment

Your email address will not be published.