২৯ নম্বর পারা

সূরা Al-Qalam

১

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ نٓ ۚ وَٱلْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ

নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,

২

مَآ أَنتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍۢ

আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন।

৩

وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍۢ

আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার।

৪

وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍۢ

আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।

৫

فَسَتُبْصِرُ وَيُبْصِرُونَ

সত্ত্বরই আপনি দেখে নিবেন এবং তারাও দেখে নিবে।

৬

بِأَييِّكُمُ ٱلْمَفْتُونُ

কে তোমাদের মধ্যে বিকারগ্রস্ত।

৭

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعْلَمُ بِٱلْمُهْتَدِينَ

আপনার পালনকর্তা সম্যক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন যারা সৎপথ প্রাপ্ত।

৮

فَلَا تُطِعِ ٱلْمُكَذِّبِينَ

অতএব, আপনি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করবেন না।

৯

وَدُّوا۟ لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ

তারা চায় যদি আপনি নমনীয় হন, তবে তারাও নমনীয় হবে।

১০

وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍۢ مَّهِينٍ

যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।

১১

هَمَّازٍۢ مَّشَّآءٍۭ بِنَمِيمٍۢ

যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে।

১২

مَّنَّاعٍۢ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ

যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সে সীমালংঘন করে, সে পাপিষ্ঠ,

১৩

عُتُلٍّۭ بَعْدَ ذَٰلِكَ زَنِيمٍ

কঠোর স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত;

১৪

أَن كَانَ ذَا مَالٍۢ وَبَنِينَ

এ কারণে যে, সে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততির অধিকারী।

১৫

إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ءَايَٰتُنَا قَالَ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ

তার কাছে আমার আয়াত পাঠ করা হলে সে বলে; সেকালের উপকথা।

১৬

سَنَسِمُهُۥ عَلَى ٱلْخُرْطُومِ

আমি তার নাসিকা দাগিয়ে দিব।

১৭

إِنَّا بَلَوْنَٰهُمْ كَمَا بَلَوْنَآ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ إِذْ أَقْسَمُوا۟ لَيَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِينَ

আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে,

১৮

وَلَا يَسْتَثْنُونَ

ইনশাআল্লাহ না বলে।

১৯

فَطَافَ عَلَيْهَا طَآئِفٌۭ مِّن رَّبِّكَ وَهُمْ نَآئِمُونَ

অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল।

২০

فَأَصْبَحَتْ كَٱلصَّرِيمِ

ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম।

২১

فَتَنَادَوْا۟ مُصْبِحِينَ

সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল,

২২

أَنِ ٱغْدُوا۟ عَلَىٰ حَرْثِكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰرِمِينَ

তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল।

২৩

فَٱنطَلَقُوا۟ وَهُمْ يَتَخَٰفَتُونَ

অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে,

২৪

أَن لَّا يَدْخُلَنَّهَا ٱلْيَوْمَ عَلَيْكُم مِّسْكِينٌۭ

অদ্য যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে।

২৫

وَغَدَوْا۟ عَلَىٰ حَرْدٍۢ قَٰدِرِينَ

তারা সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সজোরে রওয়ানা হল।

২৬

فَلَمَّا رَأَوْهَا قَالُوٓا۟ إِنَّا لَضَآلُّونَ

অতঃপর যখন তারা বাগান দেখল, তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি।

২৭

بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ

বরং আমরা তো কপালপোড়া,

২৮

قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ

তাদের উত্তম ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখনও তোমরা আল্লাহ তা’আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছো না কেন?

২৯

قَالُوا۟ سُبْحَٰنَ رَبِّنَآ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ

তারা বললঃ আমরা আমাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চিতই আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম।

৩০

فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ يَتَلَٰوَمُونَ

অতঃপর তারা একে অপরকে ভৎর্সনা করতে লাগল।