হাদীস
হজরত নূহ (আ.)-এর জীবনী ও মহাপ্লাবনের ঘটনা | কুরআন ও হাদিসের আলোকে

ব্যাখ্যা
হজরত নূহের জীবনী আমাদের ধৈর্য, ঈমান এবং আল্লাহর ওপর অবিচল ভরসার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কুরআনে তাঁর দীর্ঘ ৯৫০ বছরের দাওয়াত, সম্প্রদায়ের অবাধ্যতা, নৌকা নির্মাণ এবং মহাপ্লাবনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এই আলোচনায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে হজরত নূহ (আ.)-এর জীবন, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং বাস্তব জীবনের শিক্ষা সম্পর্কে জানব।
মিজানুর রহমান আজহারীর আলোচনা…
▶️ ভিডিওটি দেখুন।
এক লাইনের প্রশ্নোত্তর
❓ ১. হজরত নূহ (আ.) কে ছিলেন? উত্তর: তিনি আল্লাহর প্রেরিত একজন মহান নবী ও রাসুল। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ২. হজরত নূহ (আ.) কত বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন? উত্তর: তিনি তাঁর জাতির মধ্যে ৯৫০ বছর অবস্থান করেছিলেন। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৩. নূহ (আ.)-এর দাওয়াতে কতজন ঈমান এনেছিলেন? উত্তর: অল্পসংখ্যক মানুষ; কুরআনে নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৪. নূহ (আ.)-এর জাতি কেন তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল? উত্তর: তারা অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে সত্য গ্রহণ করেনি। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৫. নবীদের ওপর কেন নির্যাতন করা হতো? উত্তর: সত্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যানকারী অনেকেই নবীদের বিরোধিতা ও নির্যাতন করত। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৬. কোনো নবীর অনুসারী না থাকলে কি তিনি ব্যর্থ? উত্তর: না, নবীদের দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়া। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৭. নূহ (আ.) কেন তাঁর জাতির বিরুদ্ধে দোয়া করেছিলেন? উত্তর: দীর্ঘ অবাধ্যতার পর আল্লাহর নির্দেশিত পরিস্থিতিতে তিনি সেই দোয়া করেছিলেন। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৮. আল্লাহ কেন নূহ (আ.)-কে নৌকা বানাতে বলেছিলেন? উত্তর: আসন্ন মহাপ্লাবন থেকে ঈমানদারদের রক্ষা করার জন্য। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ৯. নূহ (আ.)-এর ছেলে কেন মহাপ্লাবন থেকে বাঁচেনি? উত্তর: সে ঈমান না এনে নৌকায় উঠতে অস্বীকার করেছিল। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
❓ ১০. নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন কত দিন স্থায়ী হয়েছিল? উত্তর: কুরআনে মহাপ্লাবনের নির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ নেই। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
হজরত নূহ (আ.)-এর ৯৫০ বছরের দাওয়াত, নবীদের ত্যাগ ও মহাপ্লাবন
বিভাগ: ইসলামিক বয়ান ও আলোচনা
আলোচক: মিজানুর রহমান আজহারী
বিষয়: নবীদের দাওয়াত, ধৈর্য, হজরত নূহ (আ.)-এর জীবন ও মহাপ্লাবন
উপস্থাপনা: মূল বক্তব্যের সম্পাদিত প্রতিলিপি
মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্য
সাইয়্যিদুনা নূহ আলাইহিস সালাম এক হাজার বছর দাওয়াত দিয়েছেন, পঞ্চাশ কমে ৯৫০ বছর। মাত্র ৮০ জন দাওয়াতে সাড়া দিয়েছে।

নূহ (আ.)-এর দিনরাত দাওয়াত
সাইয়্যিদুনা নূহ আলাইহিস সালাম বললেন:
رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا
“রাব্বি ইন্নি দাআউতু কাওমি লাইলাওঁ ওয়া নাহারা।”
ও রব্বি! আমি দিনরাত খালি দাওয়াত দিয়েছি।
যখন দাওয়াত দিতে যেতাম, আমার উম্মতেরা ভেগে ভেগে যেত।
এই যে আমি দাওয়াত দিচ্ছি, আপনারা কি ভেগে যাচ্ছেন?
বসে বসে শুনছেন, আমার নামে তাকবির দিচ্ছেন, মাহফিল শেষে হাদিয়া দিয়ে দিচ্ছেন।
কিন্তু নবীদের বিষয়টা এমন ছিল না।
নবীরা দাওয়াত দিতে দিতে হয়রান হয়ে যেতেন।


নবীদের কষ্ট ও নির্যাতনের বর্ণনা
সাইয়্যিদুনা নূহ আলাইহিস সালাম—এমন কোনো ধরনের শাস্তি নেই!
পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা লোক—এই নবীকে ধরে ধরে পেটানো হতো।
কুকুর দিয়ে লেলিয়ে দেওয়া হতো।
বেহুঁশ হয়ে গেলে মারা গিয়েছেন ভেবে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে পাহাড়ের ওপরে রেখে আসা হতো।
কিন্তু সাইয়্যিদুনা নূহ আবার হুঁশ ফিরে পাওয়ার পরে কালিমার দাওয়াত নিয়ে চলে এসেছেন।


নূহ (আ.)-এর দোয়া
তারপর তিনি দোয়া করলেন:
رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا
“রাব্বি লা তাযার আলাল আরদি মিনাল কাফিরীনা দাইয়্যারা।”
ও আল্লাহ! আমার কথা শুধু শোনে না।
আমাকে শুধু মারে, আমাকে পেটায়।
আপনি কাফেরদের যত বাচ্চাকাচ্চা আছে, সবাইকে জমিন থেকে শেষ করে দেন।
একজন নবী কখন বদদোয়া করেন?
যখন আর উপায় নেই।
যখন মার খেতে খেতে দেহ আর সয় না।
তিনি আল্লাহকে বললেন, আল্লাহ, শেষ করে দেন।


আল্লাহর নির্দেশে নৌকা নির্মাণ
আল্লাহ বললেন, তুমি নৌকা বানাও।
কী বানাও?
বিশাল কিশতি বানানো হলো।
৮০ জন উম্মত নিয়ে নৌকায় উঠলেন।

নূহ (আ.) ও তাঁর পুত্রের ঘটনা
ছেলেকে বললেন, আমার কলিজার টুকরা, নৌকায় ওঠো।
ছেলে বলে, ব্যাপার না, আমি পাহাড়ের ওপরে উঠব।
বন্যা আমার কিছু করতে পারবে না।
সাইয়্যিদুনা নূহ বললেন:
لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ
“লা আসিমাল ইয়াওমা মিন আমরিল্লাহি ইল্লা মার রাহিম।”
আজকে বাঁচানোর কেউ নেই, একজন ছাড়া।
তিনি কে?
আল্লাহ।
মহাপ্লাবনের বর্ণনা
আল্লাহ আকাশকে বললেন, আকাশ, বৃষ্টি দাও।
জমিনকে বললেন, জমিনের পানি ওপরে বের করে দাও।
চল্লিশ দিন বৃষ্টি হলো।
Drastically flooded.
গোটা বিশ্ব বন্যায় ছেয়ে গেল।
There was not a single territory in the world saved from this flood, saved from this dangerous flood.
পৃথিবীর একটা ছোট্ট জায়গাও ছিল না, ভূখণ্ড ছিল না, যেখানে বন্যা হয়নি।
নূহ আলাইহিস সালামের বন্যায় আল্লাহর কাবাঘরও ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
আল্লাহ!


আমাদের জন্য সতর্কবার্তা
এ জন্য নাফরমানি, বান্দরামি, আল্লাহর বিরোধিতা, কুরআনের বিরোধিতা যদি করি—
ওই বন্যা আসেনি।
মাঝেমধ্যে আল্লাহ একটু বন্যা দিয়ে আমাদের চেক করেন।
আমাদের রিমাইন্ডার দেন।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রাসঙ্গিক দলিল
১. নূহ (আ.)-এর ৯৫০ বছর অবস্থান: সূরা আল-আনকাবুত, ২৯:১৪
২. নূহ (আ.)-এর দিনরাত দাওয়াত: সূরা নূহ, ৭১:৫–৭
৩. অল্পসংখ্যক মানুষের ঈমান গ্রহণ: সূরা হুদ, ১১:৪০
৪. কোনো কোনো নবীর অনুসারী না থাকা: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭০৫
৫. নূহ (আ.)-এর দোয়া: সূরা নূহ, ৭১:২৬
৬. নৌকা নির্মাণ ও পুত্রের ঘটনা: সূরা হুদ, ১১:৩৭–৪৩
৭. প্রবল বৃষ্টি ও প্লাবন: সূরা আল-কামার, ৫৪:১১–১২
সম্পাদকীয় তথ্য-যাচাই
এই লেখাটি বক্তার বক্তব্যের সম্পাদিত প্রতিলিপি। বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য তাঁর বর্ণিত দাবিগুলো মূল অংশে রাখা হয়েছে। তবে সব দাবি কুরআন ও সহিহ হাদিসে সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
এ ছাড়া বর্তমান সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বন্যাকে আল্লাহর শাস্তি বলে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার জন্য পৃথক শরয়ি প্রমাণ প্রয়োজন।
লেখক ও সংকলন: আলোর দিশা ২৪ টিম
বক্তব্যের উৎস: মিজানুর রহমান আজহারীর ইসলামিক আলোচনা
নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে আমাদের পাঁচটি শিক্ষা
১. ধৈর্য: দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত ফল না পেলে হতাশ হওয়া উচিত নয়।
২. তাওহিদ: এক আল্লাহর ইবাদত এবং শিরক থেকে দূরে থাকা ঈমানের মৌলিক শিক্ষা।
৩. দাওয়াত: মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু হেদায়েত আল্লাহর হাতে।
৪. আল্লাহর ওপর ভরসা: মানুষের বিরোধিতা ও উপহাসের মধ্যেও আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে হবে।
৫. আত্মশুদ্ধি: অতীতের জাতিগুলোর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবন সংশোধন করতে হবে।
কথা,,
হজরত নূহ (আ.)-এর ৯৫০ বছরের দাওয়াত ও মহাপ্লাবনের ঘটনা আমাদের শেখায়, সত্যের পথে সফলতা শুধু অনুসারীর সংখ্যা বা বাহ্যিক অর্জনের ওপর নির্ভর করে না।
নূহ (আ.) শতাব্দীর পর শতাব্দী আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। মানুষের বিরোধিতা ও অবাধ্যতার পরও তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আসুন, আমরা তাঁর জীবন থেকে ধৈর্য, ঈমান, তাওহিদ, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা গ্রহণ করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ লিংক
- পবিত্র কুরআন — সূরা আল-আনকাবুত ২৯:১৪
- পবিত্র কুরআন — সূরা নূহ ৭১:১–২৮
- পবিত্র কুরআন — সূরা হুদ ১১:২৫–৪৯
- পবিত্র কুরআন — সূরা আল-কামার ৫৪:৯–১৫
- সহিহ বুখারি — হাদিস ৫৭০৫ হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)
লেখক: আলোর দিশা ২৪ টিম
প্রকাশনা: আলোর দিশা ২৪ | ইসলামিক জ্ঞান, ইতিহাস ও শিক্ষামূলক আলোচনা
▶️ হজরত নূহ (আ.)-এর ঘটনা বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন।
দশটি প্রশ্নের উত্তর ।
১. হজরত নূহ (আ.) কে ছিলেন?
হজরত নূহ (আ.) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত একজন মহান নবী ও রাসুল। তিনি তাঁর জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে এবং শিরক পরিত্যাগ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দলিল: সূরা হুদ, ১১:২৫–২৬
২. হজরত নূহ (আ.) কত বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন?
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, নূহ (আ.) তাঁর জাতির মধ্যে এক হাজার বছর থেকে পঞ্চাশ বছর কম, অর্থাৎ ৯৫০ বছর অবস্থান করেছিলেন। তিনি দিনরাত মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করতেন।
দলিল: সূরা আল-আনকাবুত, ২৯:১৪ এবং সূরা নূহ, ৭১:৫।
৩. নূহ (আ.)-এর দাওয়াতে কতজন ঈমান এনেছিলেন?
কুরআনে বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে অল্পসংখ্যক মানুষ ঈমান এনেছিল। প্রচলিত বর্ণনায় ৮০ জনের কথা পাওয়া গেলেও কুরআনে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই। তাই ৮০ জনকে নিশ্চিত সংখ্যা বলা উচিত নয়।
দলিল: সূরা হুদ, ১১:৪০।
৪. নূহ (আ.)-এর জাতি কেন তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল?
তাঁর জাতির অনেক মানুষ অহংকার, অবাধ্যতা এবং পূর্বপুরুষদের অনুসৃত বিশ্বাস আঁকড়ে থাকার কারণে সত্য গ্রহণ করেনি। তারা তাঁর কথা না শুনতে কানে আঙুল দিত এবং নিজেদের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখত।
দলিল: সূরা নূহ, ৭১:৬–৭ এবং ৭১:২৩।
৫. নবীদের ওপর কেন নির্যাতন করা হতো?
নবীরা মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ ও সত্যের পথে আহ্বান করতেন। অনেক অবাধ্য সম্প্রদায় এই আহ্বানের বিরোধিতা করত এবং কোনো কোনো নবীকে নির্যাতন করত। তবে নূহ (আ.)-কে কুকুর দিয়ে আক্রমণ করানো বা অচেতন অবস্থায় পাহাড়ে ফেলে আসার নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো নির্ভরযোগ্য দলিল ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
দলিল: সূরা আল-বাকারা, ২:৮৭ এবং সূরা আশ-শুআরা, ২৬:১১৬।
৬. কোনো নবীর অনুসারী না থাকলে কি তিনি ব্যর্থ?
না। নবীদের দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সহিহ হাদিসে এমন নবীর কথাও এসেছে, যাঁর সঙ্গে কোনো অনুসারী ছিল না। তাই অনুসারীর সংখ্যা দিয়ে নবীদের সফলতা বিচার করা যায় না।
দলিল: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭০৫ — Sunnah.com।
৭. নূহ (আ.) কেন তাঁর জাতির বিরুদ্ধে দোয়া করেছিলেন?
দীর্ঘদিন দাওয়াতের পর আল্লাহ নূহ (আ.)-কে জানিয়ে দেন, ইতিমধ্যে যারা ঈমান এনেছে, তাদের বাইরে আর কেউ ঈমান আনবে না। এরপর তিনি অবাধ্য জাতির বিরুদ্ধে দোয়া করেন।
দলিল: সূরা হুদ, ১১:৩৬ এবং সূরা নূহ, ৭১:২৬।
৮. আল্লাহ কেন নূহ (আ.)-কে নৌকা বানাতে বলেছিলেন?
আল্লাহ তাআলা আসন্ন মহাপ্লাবনের আগে নূহ (আ.)-কে নৌকা তৈরির নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ঈমানদাররা নৌকায় আরোহণ করে রক্ষা পান।
দলিল: সূরা হুদ, ১১:৩৭–৪০।
৯. নূহ (আ.)-এর ছেলে কেন মহাপ্লাবন থেকে বাঁচেনি?
নূহ (আ.) তাঁর ছেলেকে নৌকায় উঠতে বলেছিলেন। কিন্তু সে অস্বীকার করে পাহাড়ে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল। অবশেষে প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে সে ডুবে যায়।
দলিল: সূরা হুদ, ১১:৪২–৪৩।
১০. নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন কত দিন স্থায়ী হয়েছিল?
কুরআনে মহাপ্লাবনের ঘটনা এবং প্রবল বৃষ্টির কথা উল্লেখ আছে। তবে বৃষ্টি বা প্লাবন ঠিক কত দিন স্থায়ী হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই ৪০ দিনের দাবিকে নিশ্চিত কুরআনিক তথ্য হিসেবে বলা যাবে না।
দলিল: সূরা আল-কামার, ৫৪:১১–১২ এবং সূরা হুদ, ১১:৪৪।
হজরত নূহ (আ.)-এর ঘটনা থেকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ
হজরত নূহ (আ.)-এর ঘটনা শুধু অতীতের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং বর্তমান জীবনেও এর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। তাঁর ধৈর্য, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার আদর্শ আমরা দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করতে পারি।
১. কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা
হজরত নূহ (আ.) দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন। আমাদের জীবনেও পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা সমাজে নানা বাধা আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও সৎ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।
২. সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকা
মানুষের বিরোধিতা বা সমালোচনার কারণে সঠিক পথ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকা এই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ।
৩. পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালনার চেষ্টা করা
হজরত নূহ (আ.) নিজের পুত্রকেও নৌকায় আরোহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে আমরা শিখি, পরিবারের সদস্যদের ভালো কাজে উৎসাহিত করা, ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের কল্যাণের জন্য আন্তরিক চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করা
হজরত নূহ (আ.) আল্লাহর নির্দেশে নৌকা নির্মাণ করেছিলেন। আমাদেরও শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করার কথা বলে বসে থাকলে চলবে না; বরং পড়াশোনা, জীবিকা, পরিবার ও অন্যান্য দায়িত্বে যথাযথ চেষ্টা করতে হবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।
৫. অহংকার ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা
হজরত নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায়ের অনেকেই অহংকারের কারণে সত্য গ্রহণ করেনি। তাই অন্যের ভালো পরামর্শ গ্রহণ করা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং কাউকে তুচ্ছ মনে না করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
৬. ভালো কাজের ফল পেতে দেরি হলেও হতাশ না হওয়া
সব ভালো প্রচেষ্টার ফল সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। সন্তানকে ভালো শিক্ষা দেওয়া, সমাজে সচেতনতা তৈরি করা কিংবা মানুষের উপকার করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই ফলাফল দেরিতে এলেও সৎ উদ্দেশ্য ও প্রচেষ্টা বজায় রাখা উচিত।
৭. আল্লাহর কাছে দোয়া করা
হজরত নূহ (আ.) বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। আমাদেরও বিপদ, দুশ্চিন্তা ও কঠিন সিদ্ধান্তের সময় আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত। একই সঙ্গে সমস্যার সমাধানে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।
উপসংহার
হজরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে আমরা ধৈর্য, সততা, পারিবারিক দায়িত্ব, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা পাই। এসব শিক্ষা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রয়োগ করলে আমরা আরও দায়িত্বশীল ও নৈতিক জীবন গড়ার চেষ্টা করতে পারি।
কুরআনের তথ্যসূত্র: সূরা নূহ (৭১:১–২৮), সূরা হুদ (১১:৩৬–৪৪), সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১৪–১৫)।
লেখক: আলোর দিশা ২৪ টিম
প্রকাশনা: আলোর দিশা ২৪ | ইসলামিক জ্ঞান, ইতিহাস ও শিক্ষামূলক আলোচনা
